হাওজা নিউজ এজেন্সি: তিনি বলেন, হিজরতের পর মদিনায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম সামাজিক প্রতিষ্ঠান ছিল মসজিদ। এটি শুধু ইবাদতের স্থানই নয়, বরং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বের সামনে ইসলামের মৌলিক নীতিমালা উপস্থাপনের দৃঢ় কেন্দ্র ছিল।
মিসেস করিমি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) মসজিদকেন্দ্রিক একটি নতুন রাজনৈতিক ধারা প্রবর্তন করেছিলেন—যেখানে শাসককে বলা হতো "ইমাম", জনগণ ছিল "উম্মত" এবং শাসনকেন্দ্র ছিল "মসজিদ"। ফলে মসজিদ শুধু ধর্মীয় স্থানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি পরিণত হয়েছিল বহুমাত্রিক প্রতিষ্ঠানে—যেখানে একসাথে ধর্মীয়, শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, বিচারিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
তিনি উল্লেখ করেন, শুরু থেকেই মসজিদ ইসলামী স্থাপত্যকলার উজ্জ্বল নিদর্শন। প্রথম মসজিদের নকশা ছিল সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র, অন্য কোনো উপাসনালয়ের অনুকরণ নয়। এর সরলতা ও অনাড়ম্বর স্থাপত্য ইসলামের চেতনাকে প্রতিফলিত করেছিল।
মিসেস করিমি বলেন, ইসলামের প্রারম্ভে মসজিদগুলো ছিল শিক্ষাকেন্দ্র—যেখানে মুসলমানরা ধর্মীয় জ্ঞান, কোরআন-হাদিস, ইসলামী বিধি-বিধান এবং এমনকি মৌলিক পড়া-লেখার শিক্ষা লাভ করত। ফলে মসজিদ সমাজে এক সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি জানান, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে মসজিদ ছিল পূর্ণাঙ্গ আদালত। সেখানে আইন প্রণয়ন ও বিচারকার্য সম্পন্ন হতো, যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এর অনন্য ভূমিকা প্রমাণ করে।
মিসেস করিমি জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক দিক থেকেও মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এটি শ্রেণিবৈষম্য ভাঙা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও অভিজাততান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের কেন্দ্র ছিল। মসজিদ ছিল ভ্রাতৃত্ব ও সংহতির প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় ভূমিকার পাশাপাশি মসজিদের সবচেয়ে বিস্তৃত কার্যক্রম ছিল রাজনৈতিক। ইসলামের প্রারম্ভ থেকেই মসজিদকে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হতো এবং এটি মুসলমানদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল।
বর্তমান প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মসজিদের কার্যকারিতা পুনর্জীবিত করা আজ অপরিহার্য। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা মসজিদকে বিপ্লবের দৃঢ় ঘাঁটি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইসলামি বিপ্লব ও আরোপিত যুদ্ধের সময়ও মসজিদই ছিল সংগঠন, রণাঙ্গনে যোদ্ধা প্রেরণ ও নারীদের সহায়তার কেন্দ্র।
মিসেস করিমি জানান, বর্তমানে হাওজা ইলমিয়ার (নারী শাখা) উদ্যোগে নারী শিক্ষার্থীদের মসজিদকেন্দ্রিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, যাতে মসজিদের ভুলে যাওয়া ভূমিকা পুনরুজ্জীবিত হয়।
তিনি বলেন, প্রতিটি মসজিদের পরিচালনা কমিটি এবং শহরের মসজিদ কাউন্সিলে একজন নারী আলেমার উপস্থিতি অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। পাশাপাশি মসজিদকেন্দ্রিক পাড়াপ্রতিবেশ গড়ে তোলা সমাজে অশুভ প্রবণতা প্রতিরোধে কার্যকর হবে।
আপনার কমেন্ট